জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক নারী শিক্ষার্থীকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম।
অভিযোগে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম (৩২)-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলে তিনি বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
ভুক্তভোগীর বরাতে ওই শিক্ষক জানান, অভিযুক্তের সঙ্গে ছাত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যা পরে ভেঙে যায়। মঙ্গলবার রাতে ‘শেষবারের মতো কথা বলার’ কথা বলে অভিযুক্ত তাকে বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ দেন। ছাত্রী রাজি না হলে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
একপর্যায়ে ইফতার সামগ্রী কেনার কথা বলে ভুক্তভোগী তার বাসায় গেলে অভিযুক্ত তার মুখে টেপ লাগিয়ে মারধর করেন এবং হাতের ওপর গরম পানি ঢেলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্যাতনের এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ক্ষতের ওষুধ কিনতে বাইরে যাওয়ার কথা বললে অভিযুক্ত কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ পাঠানো হয়। চিকিৎসক তানভীর হোসেন জানান, ছাত্রীর হাতে প্রায় তিন থেকে চার সেন্টিমিটার জায়গা পুড়ে গেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ঘটনাটি সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে জানা গেছে, তবে এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়