হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে জাহাজটি ওমান উপসাগর থেকে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ কারণে জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ড ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের কার্গো জাহাজে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ওমান উপসাগর অতিক্রম করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল এবং এর মাধ্যমে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল। মার্কিন বাহিনীর দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা জাহাজটির নাবিকেরা উপেক্ষা করেছিলেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। তবে হামলায় কোনো নাবিক আহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ চলাকালে মার্কিন বাহিনী ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল এবং দুটি জাহাজ জব্দ করেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। গত জুলাইয়ে ১৩ দিন ধরে চলা তীব্র উত্তেজনার পর হামলার ঘটনা অনেকটা কমে আসে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী সময়ে তা কার্যকর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় আরোপ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে ইয়েমেনের হুথিদের জাহাজে হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
You cannot copy content of this page