ঢাকাই চলচ্চিত্রাঙ্গনে সূচনা হতে যাচ্ছে এক নতুন যুগের। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানের একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র পুরোপুরি বাংলাদেশে নির্মিত হচ্ছে, যা মুক্তি পাবে বিশ্বখ্যাত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম Netflix-এ। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত প্রযোজকদের একটি দল ঢাকা-এ পৌঁছেছেন এবং শুরু করেছেন তাদের প্রস্তুতি কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশন ঘিরে চলছে শুটিংয়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি। সিনেমাটিতে অভিনয় করবেন বাংলাদেশের প্রতিভাবান শিল্পীরা। বর্তমানে প্রযোজক দল ব্যস্ত সময় পার করছে কাস্টিং শিডিউল তৈরি, অডিশন আয়োজন এবং নতুন মুখ খুঁজে বের করার কাজে। তাদের লক্ষ্য—বাংলাদেশের মানুষের গল্প, আবেগ-অনুভূতি এবং সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরা।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের দরজা খুলবে না, বরং স্থানীয় নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী এবং কলাকুশলীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
নির্মিতব্য চলচ্চিত্রটির বাংলাদেশি প্রযোজক ও গল্পকার সাঈদ আহমেদ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এটি কেবল একটি প্রজেক্ট নয়, বরং বাংলাদেশের সিনেমার জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এখান থেকেই শুরু হতে পারে আমাদের বৈশ্বিক যাত্রা।”
তবে সিনেমাটির নাম, পরিচালক কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না তিনি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আগামী ১৪ এপ্রিল শিল্পী বাছাইয়ের জন্য অডিশনের আয়োজন করা হবে। এই অডিশনের মাধ্যমে নতুন ও সম্ভাবনাময় শিল্পীদের সুযোগ দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক মানের এই প্রযোজনায় কাজ করার।
প্রযোজক সাঈদ আহমেদের মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে এই সিনেমা শুধু একটি সফল প্রজেক্ট হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
সব মিলিয়ে, ঢাকায় শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র যাত্রা দেশের বিনোদন অঙ্গনের জন্য এক বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ কতটা সফলভাবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গল্পকে তুলে ধরতে পারে।