1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন

লাইলাতুল কদর: হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এক মহিমান্বিত রাত

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

লাইলাতুল কদর পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের একটি মহিমান্বিত রাত। এটি অল্প সময়ে বিপুল নেকি অর্জনের সুযোগ এনে দেয় এবং মুসলমানদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ মুহূর্ত। ‘লাইলাতুল কদর’ আরবি ভাষার যৌগিক শব্দ, যার অর্থ ভাগ্যরজনী বা সম্মানিত রাত। ভারতীয় উপমহাদেশে এ রাতটি শবেকদর নামে অধিক পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, এ রাতে বান্দাদের পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয় ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।

লাইলাতুল কদরের প্রেক্ষাপট

তাফসিরগ্রন্থসমূহে বর্ণিত আছে, একবার মুহাম্মদ (সা.) বনি ইসরাইলের এক মুজাহিদের কথা উল্লেখ করেন, যিনি এক হাজার মাস ধরে অবিরাম জিহাদ ও ইবাদতে নিয়োজিত ছিলেন। বিষয়টি শুনে সাহাবিরা বিস্মিত হন। তখন আল্লাহ তাআলা সুরা কদর অবতীর্ণ করেন এবং ঘোষণা করেন—এই উম্মতের জন্য লাইলাতুল কদরের এক রাতের ইবাদত সেই এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

লাইলাতুল কদর কখন

রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সূর্যাস্তের পর থেকে ফজর পর্যন্ত সময়কে এ রাতের সময় হিসেবে ধরা হয়। কোরআনে বলা হয়েছে, এ রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং ফজর পর্যন্ত শান্তি ও কল্যাণ বিরাজ করে।

নির্দিষ্ট তারিখ নয়

অনেকেই ২৭ রমজানকে শবেকদর হিসেবে গুরুত্ব দেন। তবে হাদিস অনুযায়ী এটি নিশ্চিতভাবে নির্দিষ্ট নয়। সাহাবি উবাদা ইবনে সামিত থেকে বর্ণিত এক হাদিসে বলা হয়েছে, রাসুল (সা.) লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট রাত জানাতে বের হলেও দুই ব্যক্তির বিবাদের কারণে তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। এরপর তিনি শেষ দশকের ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখে তা অনুসন্ধান করতে বলেন।

শবেকদরের ফজিলত

লাইলাতুল কদরের এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কোরআনে বলা হয়েছে, এই রাতে ফেরেশতা ও জিবরাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে অবতীর্ণ হন এবং ফজর পর্যন্ত শান্তি বিরাজ করে।

এ রাতে করণীয়

লাইলাতুল কদরে নির্দিষ্ট কোনো রাকাতের নামাজ নির্ধারিত নেই। ইচ্ছামতো নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ, তওবা-ইস্তিগফার ও দুরুদ পাঠ করা উত্তম। এ রাতে একটি বিশেষ দোয়া পড়ার কথা বলা হয়েছে—

“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।”
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

শেষ দশকে নবীজি (সা.)-এর আমল

রমজানের শেষ দশকে মুহাম্মদ (সা.) এতেকাফ করতেন এবং সারারাত ইবাদতে কাটাতেন। তিনি নিজের পরিবারকেও জাগিয়ে ইবাদতে উৎসাহিত করতেন।

সচেতনতার আহ্বান

রমজানের শেষ দশক ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। অপ্রয়োজনীয় সামাজিকতা বা অতিরিক্ত খাবারের আয়োজনের কারণে যেন ইবাদতের সুযোগ নষ্ট না হয়—এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে শেষ দশকের প্রতিটি রাত ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করলে লাইলাতুল কদর পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!