মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বড় দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
দিনভর বিক্রির চাপে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যায়। ফলে উভয় বাজারেই সূচকে বড় পতন দেখা গেছে।
লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কমেছে ৩৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ৯১ পয়েন্ট।
দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১০টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ৩৭১টির দর কমেছে এবং ৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে সূচক কমলেও লেনদেন কিছুটা বেড়ে প্রায় ৫৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৭২ কোটি টাকা বেশি।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বাজারটির সার্বিক সূচক কেসপি ৪১৯ পয়েন্ট কমেছে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টির দর বেড়েছে, ১৪৫টির কমেছে এবং ২টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব দেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে।
গত সপ্তাহেও পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই দরপতন হয়েছে। এতে এক সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে প্রায় ৩৫৯ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুঁজিবাজারে এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়