১. আল্লাহর স্মরণে ঈমান নবায়ন
মহান আল্লাহর স্মরণে ঈমান বৃদ্ধি পায়। যথাযথ ইবাদত ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করলে জীবন আলোকিত হয়, ঈমান নবায়ন হয় এবং জীবন-মৃত্যু প্রশান্তিপূর্ণ ও সৌভাগ্যময় হয়। নতুন বছরকে ঈমান নবায়নের সূচনায় পরিণত করা উচিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের ঈমান নবায়ন কর।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘বেশি বেশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে থাক।’ (মুসনাদে আহমদ : ৮৭১০)।
আরও বলেন, ‘তোমাদের হৃদয়ে ঈমান জীর্ণ হয়… সুতরাং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর, যেন তিনি তোমাদের হৃদয়ে ঈমান নবায়ন করে দেন।’ (মুসতাদরাকে হাকেম : ৫)।
২. গোনাহ থেকে তওবা
তওবা হলো কৃত গোনাহের জন্য অনুশোচনা, আল্লাহর কাছে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে তা পরিহারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গোনাহ থেকে তওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো হয়ে যায়।’ (ইবনে মাজাহ : ৪২৫০)।
আরও এসেছে, ‘তওবাকারী ওই ব্যক্তির মতো, যার কোনো গোনাহ নেই।’ (বাইহাকি : ২০৩৫০)।
রাসুল (সা.) নিজেও নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন বহুবার ইস্তিগফার করতেন (মুসলিম : ২৭০২)।
৩. আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা
নতুন বছরে ইহকালীন ও পরকালীন সুখ-শান্তি, সফলতা ও কল্যাণ আল্লাহর কাছেই কামনা করতে হবে। আল্লাহই একমাত্র কল্যাণদাতা। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও সুপারিশ বা রক্ষা কোনো কাজে আসবে না (সুরা ইয়াসিন : ২৩–২৪)।
৪. জীবনের হিসাব-নিকাশ
মানুষকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। সময় ফুরোলেই মৃত্যু আসে। তাই পরকালের হিসাবের আগে দুনিয়াতেই আত্মসমালোচনা জরুরি।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘সৌভাগ্যবান তারা, যারা দীর্ঘায়ু পেয়ে নেক আমলে জীবন কাটায়; আর দুর্ভাগা তারা, যারা বদ আমলে কাটায়।’ (তিরমিজি : ২৩২৯)।
ওমর (রা.) বলতেন, ‘তোমরা নিজেদের হিসেব করে নাও, তোমাদের হিসেব নেওয়ার আগে।’ (তিরমিজি : ২৪৫৯)।
৫. অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ
নতুন বছরে প্রবেশের সময় বিগত বছরের পর্যালোচনা জরুরি। অতীতের ভুল সংশোধন করে পাপমুক্ত জীবনের প্রত্যয় নিতে হবে। কোরআন-হাদিসে বর্ণিত পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ঘটনাবলি মানুষের জন্য শিক্ষা।
আল্লাহ বলেন, ‘তাদের ঘটনায় বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।’ (সুরা ইউসুফ : ১১১)।
৬. নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনা
সঠিক নিয়ত ও পরিকল্পনাই সফলতার পথ দেখায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতিটি কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (বোখারি : ১)।
নতুন বছরে ঈমান, আমল ও আখলাককে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা করা উচিত—নামাজ-রোজা যথাযথভাবে আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, দ্বীনি জ্ঞানার্জন, দান-সদকা ও পরোপকার বৃদ্ধি।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ২৬)।