গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে নারী বন্দি রিম্পা (২১) পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি প্রিজন্স) জান্নাতুল ফরহাদ জানান, শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাতজন হলেন—মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় রিম্পা অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন। গত ৯ জুলাই আদালতের মাধ্যমে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর কারা কর্তৃপক্ষ কারাগারজুড়ে তল্লাশি চালালেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন।
এআইজি জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, ঘটনার পর কোনাবাড়ি থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে একটি সূত্র পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনাবাড়ি এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে রিম্পা তার বাড়িতে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, কারা বিধি অনুযায়ী বিকেল ৫টার মধ্যে বন্দিদের লকআপে নেওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ে লকআপ সম্পন্ন না হওয়ায় ওই বন্দি পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন জানান, কারাগারের জেলার শিরীন আক্তার এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে অনুসন্ধান ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
You cannot copy content of this page