পঞ্চগড়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার চার মাস পরও চূড়ান্ত মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে সনদ পাওয়া ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ২৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ‘পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নেওয়া এসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ট্রেডে ২৪০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) অধীনে প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্ত মূল্যায়ন পরীক্ষা হওয়ার কথা। তবে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার প্রায় চার মাস পার হলেও সেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ চলাকালে তাদের কাছ থেকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানালে অনেক শিক্ষার্থীর নাম পরীক্ষার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ছাড়া পঞ্চগড়ের শিক্ষার্থীদের রংপুরে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রশিক্ষণার্থী পুণ্য আলমগীর ও আতিক ফয়সাল জানান, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে। প্রতিবাদ করলে নাম বাদ দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন কষ্ট করে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এখন সনদ পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমির পরিচালক মনিষা সোমা বলেন, এখনো পরীক্ষার অনুমতি না পাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত রংপুরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
অ্যাসেট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক-১ প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা বা জামানত নেওয়ার নিয়ম নেই। প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের নিয়ম ও শর্ত মেনে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সহকারী পরিচালক মহিন উদ্দিন বাহার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত হলেও পরীক্ষা কেন অনুষ্ঠিত হয়নি, তা তদন্ত করে দেখা হবে। আবেদনকারী সব প্রশিক্ষণার্থীরই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার কথা।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকুরিয়া পারভীন বলেন, ২৪০ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ও সনদ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের দাবি, দ্রুত পঞ্চগড়েই চূড়ান্ত মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করে যোগ্যদের সনদ দিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ আদায়সহ যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
You cannot copy content of this page