জীবনের বহু স্বপ্ন আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে গড়া একটি খামার কীভাবে নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, তার এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক উদাহরণ দেখলো গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মানুষ।
রাজনীতি ও সমাজসেবার পাশাপাশি নিজ পায়ে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও সফল উদ্যোক্তা সোহেল রশীদ হৃদয়।
কিন্তু দুর্বৃত্তদের এক হিংস্র থাবায় আজ তার চোখের সামনে ভেসে উঠেছে সাধের খামারের লাখ লাখ টাকার মৃত মাছের হাহাকার।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতের আঁধারে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের করতোয়াপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এই অমানবিক ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রশীদ হৃদয় ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি লিজ নেওয়া একটি পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত যত্নের সাথে কার্প জাতীয় মাছ চাষ করে আসছেন। নিজের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে খামারটি দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কে জানত, রাতের নিস্তব্ধতায় কেউ তার এই তিলে তিলে গড়া স্বপ্নটাকে চিরতরে মুছে দেবে?
ভোরে পুকুরের পাড়ে গিয়ে যে দৃশ্য তিনি দেখেছেন, তা যেকোনো মানুষের হৃদয়কে প্রকম্পিত করার জন্য যথেষ্ট। বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট বা ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগের ফলে পুকুরের পানির উপরিভাগে ভেসে উঠেছে শত শত মৃত ও ধুঁকতে থাকা মাছ। চোখের পলকে তছনছ হয়ে গেছে একটি যুবকের সাজানো গোছানো ভবিষ্যৎ। এই আকস্মিক ক্ষতিতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা সোহেল রশীদ হৃদয় ভারী কণ্ঠে বলেন, "আমার ধারণাও ছিল না এমন ন্যাক্কারজনক কাজ কেউ করতে পারে। এলাকার কারো সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। অথচ পরিকল্পিতভাবে আমার এই ক্ষতি করা হলো।"
একটি উদীয়মান তরুণের সফল হওয়ার পথে এমন ঈর্ষাকাতরতা মূলক কর্মকাণ্ড কেবল একজন উদ্যোক্তাকেই নিঃস্ব করে না, বরং পুরো সমাজকে কলুষিত করে। নিঃস্ব হয়ে পড়া এই তরুণ উদ্যোক্তা ও তার পরিবার এখন বাকরুদ্ধ। এ ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুধী সমাজ।
You cannot copy content of this page