ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় সময়মতো আদালতে হাজির হতে পারেননি চিত্রনায়িকা পরীমণি।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে পরীমণিকে আসামিপক্ষের জেরার জন্য দিন ধার্য ছিল।
এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী আদালতে জানান, যানজটের কারণে পরীমণির আসতে দেরি হচ্ছে। এ কারণে তার উপস্থিতির জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
তবে নির্ধারিত সময়ে পরীমণি আদালতে হাজির না হওয়ায় জেরার জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন বিচারক। এরপর তিনি এজলাস থেকে নেমে যান।
পরে পরীমণি সিএমএম আদালতের সামনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এটি তার জন্য একটি বিড়ম্বনার বিষয়। সন্তানকে সামলে আদালতে আসা তার জন্য কষ্টকর বলেও জানান তিনি। পাঁচ বছর ধরে মামলা চলার কথা উল্লেখ করে পরীমণি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি হবে এবং আসামিরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবেন।
মামলার আসামিরা হলেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহিদুল আলম।
এই মামলায় ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে নিজের জবানবন্দি শেষ করেন পরীমণি। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার জেরা সম্পন্ন হয়নি।
২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মামলায় নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহিদুল আলমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন। এরপর ২০২২ সালের ১৮ মে একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
এর আগে ২০২১ সালের ১৪ জুন সাভার থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। মামলা দায়েরের পর অভিযানে নামে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিনই নাসির উদ্দিনসহ পাঁচজনকে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে আটক করা হয়। অভিযানে ওই বাসা থেকে মদ-বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এরপর ওইদিন রাত ১২টা ৫ মিনিটে ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার শিকদার বাদী হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় নাসিরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করেন।
You cannot copy content of this page