ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন, কার্যালয় ও একটি ছাত্রাবাসে আগুন লাগার পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত দেড়টা থেকে সকাল সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়া কিয়েভ লক্ষ্য করে প্রায় ৪০টি ইস্কান্দার-এম ও হাইপারসনিক জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ড্রোনও ব্যবহার করা হয়।
হামলার শুরুতেই রাজধানীজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত (সাইরেন) বেজে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা যায়। এরপর একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কিয়েভের বিভিন্ন এলাকা। এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঐতিহাসিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে ভবন কেঁপে ওঠে এবং রাস্তায় থাকা যানবাহনের অ্যালার্ম বেজে ওঠে।
কিয়েভের শেভচেঙ্কিভস্কি জেলার একটি তিনতলা ভবনে আগুন ধরে যায়। উদ্ধারকারী দল সেখানে আটকে পড়া কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরও চারটি এলাকায় হামলার ফলে আবাসিক ভবন, অফিস ও একটি ছাত্রাবাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় লুকিয়ানিভস্কা মেট্রোস্টেশনের নিচতলার প্রবেশপথের ছাদ ধসে পড়ে। স্টেশনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দারা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও প্রকাশ করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানায়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। তারা রাশিয়ার ছোড়া ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এছাড়া হামলায় ব্যবহৃত ১২৫টি ড্রোনের মধ্যে ১০৮টি ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।
হামলার পর রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেন জরুরি পরিষেবার সদস্যরা। একই সঙ্গে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ভ্লাদ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে বারান্দার দরজা ভেঙে তার মাথায় এসে পড়ে। তিনি বলেন, "আমার দাদি আমার সঙ্গে থাকেন। তিনি হাঁটতে পারেন না। তাঁকে ফেলে আমি কীভাবে পালাব?"
এদিকে সলোমিয়ানস্কি, দেসনিয়ানস্কি ও দিনিপ্রো জেলাতেও হামলার পর আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। চলমান যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে 'প্যাট্রিয়ট' ইন্টারসেপ্টর তৈরির লাইসেন্স নিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে ইউক্রেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বর্তমানে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে পশ্চিমা মিত্রদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
You cannot copy content of this page