ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী জাইদির প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। এক সপ্তাহের সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছাড়াও মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন তেল কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় এ সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাব ইরাকে পড়েছে। ফলে বাগদাদের জন্য দুই দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
চলতি বছর ক্ষমতায় আসা আলি আল-জাইদি দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন। সফরের আগে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, তার সরকার রাষ্ট্রের হাতে বৈধভাবে শক্তি প্রয়োগের একচ্ছত্র অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এএফপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরস্ত্র হওয়ার সময়সীমা দিয়েছে ইরাক সরকার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জঙ্গিবিরোধী জোটের মিশনও শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইরাকি রাজনীতিক এএফপিকে বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক জোরদার করতে চাইলেও, এর অর্থ এই নয় যে ইরাক ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
তার ভাষায়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইরাককে দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র: এএফপি।
You cannot copy content of this page