হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালানোর পাশাপাশি দেশটির বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ পুনরায় কার্যকর করেছে। এর জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে সাময়িক শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা কার্যত ভেস্তে গেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতের পর ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা থেকে যাওয়া-আসা করা সব জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর কিছুক্ষণ আগে ইরানি গণমাধ্যম সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহর এবং আশপাশের এলাকায় মার্কিন হামলার খবর প্রকাশ করে।
সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ অভিযানের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পুরোনো তেল শোধনাগার অবস্থিত আবাদান শহর, বন্দরনগরী মাহশাহর, কেশম দ্বীপ এবং কিশ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তার আগের রাতেও বুশেহর ও বন্দর আব্বাস এলাকায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়।
এসব হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলীয় জলসীমায় চলাচলকারী দুটি জাহাজে হামলা চালায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। একই দিনে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানেও ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক রেসুল সারদার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কম তীব্রতার হলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে দোহা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ভিক্টোরিয়া গেটেনবি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উপসাগরীয় দেশগুলো এবং জর্ডানও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, কারণ ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দুটি সুপারট্যাংকারে হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজ দুটি নির্দেশনা অমান্য করায় সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আইআরজিসি জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবিও করেছে। তবে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরানের আকাশপথের হামলা প্রতিহত করেছে। উল্লেখ্য, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে।
You cannot copy content of this page