জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার তিনি বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার পর ফিলিস্তিনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার পর কক্ষের একাংশ থেকে তাকে লক্ষ্য করে দুয়ো দেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অধিবেশনের সভাপতিকে একাধিকবার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে হয়।
ওয়াকআউট করা প্রতিনিধিদের সমালোচনা করে নেতানিয়াহু তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন। ভাষণে তিনি ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক নীতিরও সমালোচনা করেন।
অধিবেশন কক্ষের বাইরেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে নিউইয়র্কের ফার্স্ট অ্যাভিনিউতে কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তারা ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন’ এবং ‘গাজা ও ইরানকে বাঁচতে দিন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা গাজা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ইসরায়েলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক চাপ ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনেও এর প্রতিফলন দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো বৈঠক হয়নি। তবে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তাকে ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি নীতির সমালোচনা এবং পশ্চিম তীরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপের কারণে ব্রিটেন ও ফ্রান্সেরও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি দেশ দুটির নেতাদের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষীদের কাছে নতিস্বীকারের অভিযোগ তোলেন।
ভাষণে ইরানেরও তীব্র সমালোচনা করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ‘খুনে স্বৈরশাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের পতন শিগগিরই ঘটবে বলে মন্তব্য করেন।
You cannot copy content of this page