ভারতের দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনায় আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। আগামী এক বছর শান্তি ভঙ্গ হতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মুক্তি পাওয়া নেতারা হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, প্রধান মুখপাত্র ও সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং মুখপাত্র ও সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাঁদের হাজির করা হয়। এর আগে শনিবার দিল্লিগামী একটি উড়োজাহাজ থেকে তাঁদের আটক করেছিল পুলিশ।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির পরিকল্পিত বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে তাঁদের প্রতিরোধমূলকভাবে আটক করা হয়।
এর আগের দিন, অর্থাৎ শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনীতিবিদসহ তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে শনিবার রাতেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ফলে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে জড়ো হন।
আটক হয়ে পরে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ইউটিউব অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠিও ছিলেন। তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমর্থক এবং ভারতের ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং তালিকায় কারসাজির অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। শান্তিপূর্ণ জমায়েত ঠেকাতে দিল্লিতে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ ভারতের নির্বাচন কমিশন অস্বীকার করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কমিশনের সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে।
You cannot copy content of this page