গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুবদলের সাবেক নেতা মাহাবুব আলম। প্রায় এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে এবং মায়ের মাথায় হাত রেখে তিনি ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকার শপথ নেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ধনুয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক কর্মী ও উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মাহাবুব আলম জানান, ২০০৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং গাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের দুঃসময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত নিজ দলের কিছু নেতাকর্মীর কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা করা হয়, যার কারণে তাকে কারাভোগও করতে হয়েছে। কারামুক্তির পর দলের কিছু নেতাকর্মীর অনিয়ম ও দুর্নীতির সমালোচনা করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মাহাবুব আলম বলেন, “দলের জন্য জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করেছি। কঠিন সময়ে দলের পাশে থেকেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্মানের পরিবর্তে অপমান, হয়রানি ও কারাভোগই আমার প্রাপ্তি। তাই আজ থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আমার সব ধরনের সম্পর্কের ইতি টানলাম। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও নিজেকে আর সম্পৃক্ত করব না।”
এ সময় তিনি তার মা হাওয়া বেগমের মাথায় হাত রেখে জীবনের বাকি সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার শপথ করেন।
তবে মাহাবুব আলমের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক মনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা বিএনপি প্রায় ছয় থেকে সাত দিন আগে মাহাবুব আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। বর্তমানে তিনি বিএনপি কিংবা এর কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্য নন।
স্থানীয়দের মতে, প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা এ এলাকায় বিরল ঘটনা। ফলে বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
You cannot copy content of this page