কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন সুমন। তাঁর কাছে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না। আঙুলের ছাপযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁকে শনাক্ত করতেও তদন্তকারীদের বেগ পেতে হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে সুমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যেভাবে উদ্ধার হয় শিক্ষার্থীর মরদেহ
গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল না।
তাজমিনের পরিবার কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত।
বাবার ফোনে পাঠিয়েছিল লাইভ লোকেশন
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। এরপর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। একই রাতে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠায় তাজমিন। তবে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পাননি।
পরদিন সকালে লালমাইয়ের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশা উদ্ধার
পুলিশ ঘটনাস্থলের পাশ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির মালিক বাগমারা এলাকার মনির হোসেন। সুমন সেটি ভাড়ায় চালাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
সুমনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ, ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এবং এতে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
You cannot copy content of this page