পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
মন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইন্টারপোল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। ইন্টারপোলের অনুরোধের ভিত্তিতেই দুবাইয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১২ জুন বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিধি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফেরত চাওয়ার আবেদন করতে হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং বিদেশে অবস্থান করায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেন।
ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন বেনজীর আহমেদ। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর দেখা দেননি এবং তার অবস্থান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে বেনজীর আহমেদও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসেন।
You cannot copy content of this page