রাজধানীর মিরপুরে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মারধরের শিকার হওয়ার পাশাপাশি উল্টো চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার অভিযোগ করেছেন বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াকুব আলী। তাঁর দাবি, চাঁদার দাবিতে হামলার পর তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও চাঁদাবাজির অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ইয়াকুব আলী। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইয়াকুব আলী বলেন, গত ৫ অক্টোবর সকালে তাঁর একটি লেগুনার চালক গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে প্রতিটি গাড়ি থেকে জোরপূর্বক ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করায় তাঁকেসহ নজরুল ইসলাম ও বাবুল নামে আরও দুই লেগুনামালিককে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে গুলি করার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইয়াকুব আলীর দাবি, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয়েছে। মারধরের পর তাঁকে চাঁদাবাজির অভিযোগে দারুস সালাম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে আদালতে পাঠানো হলেও চাঁদাবাজির অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে জানান তিনি।
মুক্তির পরদিন থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেনি বলেও দাবি করেন ইয়াকুব আলী। পরে বাধ্য হয়ে তিনি মিরপুর অঞ্চলের পুলিশের উপকমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ইয়াকুব আলীকে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি থানায় অভিযোগ নিয়ে এলে সুনির্দিষ্ট ও শক্ত ভিত্তি না থাকায় তা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর অনুসারী পরিচয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র মিরপুর-১ এলাকার পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড দখলের চেষ্টা করছে। স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে মালিকদের নিয়মিত চাপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমানের অভিযোগ, এ ঘটনায় বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, কানা পলাশ, রাসেল, শামীম ও মজিবর রহমানসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন জড়িত। অভিযুক্তদের মধ্যে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সাইদুর রহমান আরও বলেন, লেগুনা স্ট্যান্ডের পাশাপাশি মিরপুর-১ এলাকার কাঁচাবাজার, ফুটপাত, ভ্যানগাড়ির স্ট্যান্ড এবং বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবসা থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁর দাবি, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল স্ট্যান্ডগুলোতে অবস্থান করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর চড়াও হওয়া হয়। এতে লেগুনার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোলেমান দেওয়ান। তিনি দাবি করেন, মারধরের ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করতে একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে এস এ সিদ্দিক সাজু বলেন, লেগুনা শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দ্বন্দ্বের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি শুনেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর অনুসারী বা কর্মী থাকতে পারেন, তবে লেগুনা ব্যবসা কিংবা এ ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগসাজশ নেই।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
You cannot copy content of this page