সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার কারণ ও এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জোটের নেতারা বলছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মতামত দিয়েছে, সংবিধান সংশোধনের পক্ষে নয়। তাদের দাবি, গণভোটের রায়ের পর সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠন জনগণের দেওয়া মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে কমিটির নির্ধারিত মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটভুক্ত দলগুলো।
জোটের নেতাদের ভাষ্য, গণভোটের রায়ের ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এমন কোনো কার্যক্রমে তারা সহযোগিতা করতে চান না। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনবিরোধী কার্যক্রমে তারা কেন সহায়তা করবেন।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও জানান, এ ইস্যুতে ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন। তাদের দাবি, সংসদে অবস্থান স্পষ্ট করার পর একই বিষয়ে বিশেষ কমিটির বৈঠকে গিয়ে মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন তারা দেখছেন না।
এদিকে, জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি রোববার জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করেছে। বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার কারণ, গণভোটের রায় সম্পর্কে তাদের অবস্থান এবং সংবিধান সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে তাদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে জোটের আপত্তির বিষয়গুলোও তুলে ধরবেন নেতারা।
You cannot copy content of this page