গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের জন্মনিবন্ধনে ভুল তথ্য সংযোজন করে তাদের উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন নাদিয়া আক্তার সেতু নামে এক বিধবা নারী। এ ঘটনায় তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৭ (কোনাবাড়ী) এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক আবেদন করেছেন।
নাদিয়া আক্তার সেতু গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার হরিনাচালা পারিজাত এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মো. বাবলু মিয়া এবং স্বামী মৃত আনোয়ার জাহিদ উজ্জ্বল। ২০১৮ সালে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। পরে ২০২৩ সালে মারা যান তাঁর শ্বশুর মো. ছবদের আলী।
আবেদনে নাদিয়া উল্লেখ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি একাই দুই ছেলেকে লালন-পালন করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, তাঁর দুই সন্তানের নামে পৃথকভাবে আরও দুটি জন্মনিবন্ধন তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব জন্মনিবন্ধনে সন্তানদের নাম, জন্মতারিখ ও মায়ের নামসহ বিভিন্ন তথ্য ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তাঁর কাছে সন্তানদের সঠিক জন্মনিবন্ধনের কপি রয়েছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভুল তথ্যসংবলিত এসব জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে তাঁর সন্তানদের উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তিনি এর আগে সংশ্লিষ্ট থানায়ও অভিযোগ করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৭-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া আবেদনে তিনি বিতর্কিত দুটি জন্মনিবন্ধন বাতিলের আবেদন করেন। আবেদন অনুযায়ী, জন্মনিবন্ধন নম্বর ২০১৪৩৩৯৩৩০৮০৫৭৯৪৪-এ জন্মতারিখ ২০ মে ২০১৪ এবং জন্মনিবন্ধন নম্বর ২০১৫৩৩৯৩৩০৮০৫৭৯৪৩-এ জন্মতারিখ ২১ এপ্রিল ২০১৫ উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া আবেদনে নাদিয়া বলেন, তাঁর কাছে সন্তানদের সঠিক জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় সব নথি রয়েছে। এসব কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।
আবেদনে নাদিয়া আক্তার সেতু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই, ভুল জন্মনিবন্ধন বাতিল এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
You cannot copy content of this page