ভোলা জেলা পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভোলা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশ। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।পরে গ্রেফতারকৃতদের ডোপ টেস্টে বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটে ভোলা সদর মডেল থানার এসআই (নিঃ) মো. আলাউদ্দিন হাওলাদার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ভোলা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মাদক সেবনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন স্থানীয় আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক ভোলা টাইমস্-এর সম্পাদক ও প্রকাশক ১. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ (রাজিব) (৪৫), পিতা—মো. সুলাইমান, সাং—আমানতপাড়া, ভোলা পৌরসভা। ২. ফয়সাল হোসেন (৩৭), পিতা—মৃত আফজাল হোসেন, সাং—জিনজিরা হাওলী, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা। ৩. রিমি কবিতা (রিমা সরদার) (৪৫), স্বামী—মো. আইয়ুব সরদার, সাং—জিনজিরা হাওলী, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।
পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেফতারের পর তাদের ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগে ডোপ টেস্ট করানো হয়। পরীক্ষায় স্থানীয় দৈনিক ভোলা টাইমস্ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ (রাজিব)-এর শরীরে Methamphetamine (ইয়াবা), Amphetamine (ইয়াবা) ও Methylenedioxymethamphetamine (ইয়াবা) শনাক্ত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এছাড়া ও ফয়সাল হোসেনের ডোপ টেস্টে Methamphetamine (ইয়াবা) ও Cannabinoids (গাঁজা) এবং রিমি কবিতা (রিমা সরদার)-এর শরীরে Methamphetamine (ইয়াবা) ও Amphetamine (ইয়াবা) শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ভোলা সদর মডেল থানার মামলা নং-০৯, তারিখ-০৪/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, জিআর- ৫৬৪/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রুজু করা হয়েছে। মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারনির ১৬/২১ ধারায় দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা বলেন, একজন সংবাদপত্রের সম্পাদক সমাজে জনমত গঠন, সত্য তুলে ধরা এবং নৈতিকতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সেই অবস্থানে থাকা কোনো ব্যক্তি যদি মাদক সেবনের মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হন এবং ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসে, তাহলে বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিব্রতকর।
তারা মনে করেন, একজন আঞ্চলিক পত্রিকার সম্পাদক কীভাবে এমন অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন—এ প্রশ্নের জবাব সমাজের সামনে আসা প্রয়োজন। সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের সম্পাদনার মতো দায়িত্বশীল পেশা কখনোই অনৈতিক, বেআইনি কিংবা মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের আড়াল হতে পারে না। তবে একই সঙ্গে তারা বলেন, গ্রেফতার বা ডোপ টেস্টের তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে চূড়ান্তভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করা যাবে না; আদালতের বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে হবে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আরও বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আর সমাজের সামনে যারা নৈতিকতা, আইন ও দায়িত্বশীলতার কথা বলেন, তাদের বিরুদ্ধেই যদি মাদকসেবনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর নেতিবাচক বার্তা সৃষ্টি করে। এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব, পরিচয় কিংবা পেশাগত অবস্থানকে বিবেচনায় না এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় কোনো ব্যক্তির জন্য আইনের ঊর্ধ্বে থাকার ঢাল হতে পারে না। আবার অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে সামাজিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করাও গ্রহণযোগ্য নয়। সুষ্ঠু তদন্ত, প্রমাণ যাচাই এবং আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়াই হওয়া উচিত একমাত্র পথ।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করে, তাহলে সমাজে একটি শক্ত বার্তা যায়—অপরাধের সঙ্গে যারই সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকুক, পরিচয় বা অবস্থান নয়, আইনের আওতায় আসাটাই হবে মূল বিষয়।
ভোলা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে জেলা পুলিশ।
You cannot copy content of this page