রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। পরে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সড়ক অবরোধমুক্ত করার পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বেতন-সংক্রান্ত বিষয়টি ওই বোর্ডের মাধ্যমেই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিষয়টি আন্দোলনরত শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা সড়ক ছাড়তে রাজি হননি। পরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তার মাধ্যমে সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হলেও কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি।
এদিকে, সড়ক অবরোধমুক্ত করার সময় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিদুল ইসলাম বলেন, ওই সময় পুলিশ সড়ক পরিষ্কারের কাজে ব্যস্ত ছিল। কারও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অন্যায় হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাকশ্রমিকেরা। তাঁদের অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
একপর্যায়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
উল্লেখ্য, একই দাবিতে গত শনিবারও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা।
You cannot copy content of this page