বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরী নিখোঁজ হওয়ার আগে যার ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, সেই বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শুক্রবার সকালে পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রেজা দীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়েছে। তাহসিফের সঙ্গে তিনি কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর তদন্তে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাহসিফের মোটরসাইকেলটি দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গত বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেজা দীপের ফোন পাওয়ার পর নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে বের হন তাহসিফ।
রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি বাসায় ফিরছেন বলে জানান। তবে বার্তাটিতে তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তার বাবা। এরপর থেকে তাহসিফের সঙ্গে পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি। যদিও তার এক নিকটাত্মীয়ের দাবি, মায়ের ফোনে পাঠানো সর্বশেষ ভয়েস বার্তাটি তাহসিফের কণ্ঠ বলে তার কাছে মনে হয়নি।
রেজা দীপ বৃহস্পতিবার বিকালে জানান, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা তাহসিফের মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য একটি গ্যারেজে যান। পরে উত্তরার রুয়াপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুকু’ রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। এরপর দুজন নিজ নিজ মোটরসাইকেলে রওনা হন। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত তারা একসঙ্গে ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আলাদা হয়ে যান। এরপর তিনি বাসায় ফিরে গেলেও তাহসিফের বিষয়ে আর কিছু জানেন না বলে দাবি করেন দীপ।
পিবিআই জানিয়েছে, মোটরসাইকেল মেরামত ও রেস্তোরাঁয় যাওয়ার বাইরেও তারা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, তা জানতে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ তার হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পেলেও মোটরসাইকেলটির সন্ধান পায়নি।
তাহসিফ সাউরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ওঠার একটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। ভিডিও ধারণের কারণে বিমান বাহিনীর চাকরি হারিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘হতে পারে’।
এদিকে, গত বছরের ৪ আগস্ট ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাহসিফসহ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রসঙ্গ আসে। এর প্রতিবাদে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ওই দুই কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
তাহসিফের বাবা জানিয়েছেন, বিমান বাহিনী থেকে তার ছেলের চাকরি যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘শৃঙ্খলাজনিত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেত্র নিউজে কাজ করেন।
তাহসিফকে হত্যা করে মরদেহ তুরাগে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার বাবা। তবে মৃত্যুর কারণ এবং নিখোঁজ হওয়ার পেছনের ঘটনা তদন্ত করে দেখছে পিবিআই।
You cannot copy content of this page