বরগুনার আমতলী উপজেলার মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কলেজটিতে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দিন ফকির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব তুহিন মৃধাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হওয়ার পর কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পরদিন শুক্রবার দুপুরে গুলিশাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে চারজনকে ধরে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে রাত ৯টার দিকে তাঁদের আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—কলাগাছিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর চৌকিদারের ছেলে আসিফ আহম্মেদ (২০), পূর্ব চুনাখালী গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে মো. মাহিদুল ইসলাম (২০), কালিবাড়ি গ্রামের মাহবুব কাজীর ছেলে সাইফুল ইসলাম কাজী (২৩) এবং গোছখালী গ্রামের বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে ইস্রাফিল (২০)। আটক ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি, তাঁদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। মামলার এক নম্বর আসামি আসিফ আহম্মেদ ঘটনার দিন কলেজের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করেছেন তাঁর মা নুপুর বেগম। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর পুনরায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়ায় তার পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে, ইস্রাফিলের মা খুকি বেগম দাবি করেন, ঘটনার দিন তাঁর ছেলে কলেজে ছিলেন না; তিনি খাকদান গ্রামে তাঁর নানা বারেক সিকদারের বাড়িতে ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁদের ছেলেদের দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন করেছেন। মামলার বাদী গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মো. রিয়াজুল কবির মুন্সী অভিযোগ করেন, আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাঁর দাবি, তাঁরা ধারালো দা, রামদা, হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে স্লোগান দিয়ে কলেজের ফটক ভাঙচুর এবং ক্ষতিসাধন করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, আটক চারজনের মধ্যে তিনজন কলেজের শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম কাজী কলেজ শাখা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অন্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা তাঁর জানা নেই!
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ অতিথি তুহিন মৃধা বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা নবীনবরণ অনুষ্ঠান পণ্ড করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মো. জালাল উদ্দিন ফকিরও ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আটক চারজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তবে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ অভিযোগ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার রাতে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২৮ জন অজ্ঞাতনামা। আটক চার আসামিকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
You cannot copy content of this page