প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ‘প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬’ অনুযায়ী এখন থেকে উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
নতুন নিয়মে জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি অভিভাবকের হাতে অর্থ পৌঁছাবে। তবে শিক্ষার্থীর মা না থাকলে বাবা বা বৈধ অভিভাবক এই অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবে। একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আওতায় আসবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা মাসে ৭৫ টাকা পাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী পাবে মাসে ১৫০ টাকা এবং একই পরিবারের দুজন হলে ৩০০ টাকা। যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু রয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীরা মাসে ২০০ টাকা এবং একই পরিবারের দুজন হলে ৪০০ টাকা পাবে।
উপবৃত্তি চালু রাখতে শিক্ষার্থীদের মাসে অন্তত ৮০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী শ্রেণির পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করে ৩৩ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী টানা তিন মাস অনুপস্থিত থাকলে তার উপবৃত্তি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্মনিবন্ধন ও অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পুরো কার্যক্রম ডিজিটালভাবে তদারকি করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। উপবৃত্তি বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।







