চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সংযোগস্থলে কুমার নদের ওপর নির্মিত হাড়গাড়ি-বাজিতপুর ব্রিজটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় তিন দশক আগে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, ব্রিজটি মিরপুর উপজেলার সুকচা, বাজিতপুর, পাগলা, চকহারদীসহ অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষের আলমডাঙ্গা শহরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা এই সেতু ব্যবহার করেন। শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আলমডাঙ্গা শহরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ব্রিজটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রিজের নিচের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং দুই পাশের উইং ওয়ালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এছাড়া সেতুটি এতটাই সরু যে একসঙ্গে দুটি যানবাহন চলাচল করতে পারে না। একটি ইজিবাইক বা ভ্যান উঠলে বিপরীত দিকের যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হয়। ফলে প্রতিদিনই যানজট ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচলও প্রায় বন্ধ থাকায় কৃষিপণ্য ও মালামাল পরিবহনে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ বলেন, কুমার নদের ওপর নির্মিত এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে দুই উপজেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বর্তমানে এর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি জানান, ব্রিজটি ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এটি কেডিআরআইডিপি (KDRIDP) প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলেই নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি ব্যবহার করছেন। সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আলমডাঙ্গা শহরে যাতায়াতের প্রধান পথ এটি। তিনি দ্রুত একটি নতুন, প্রশস্ত ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় এক এনজিও কর্মী বলেন, প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। সেতুর অবস্থা এতটাই খারাপ যে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কৃষক মহির উদ্দিন বলেন, ব্রিজটি এখন আর ব্যবহার উপযোগী নেই। মালামাল পরিবহনের জন্য দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।
আরেক কৃষক মোজাল উদ্দিন জানান, ধান, পাট ও সবজি বাজারে নিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বড় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন ও প্রশস্ত সেতু নির্মাণ হলে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
ইজিবাইক চালক বশির আলী বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার করতে হয়। গাড়ি উঠলেই ব্রিজ কেঁপে ওঠে বলে মনে হয়। তিনি দ্রুত পুরোনো ব্রিজটি ভেঙে নিরাপদ ও প্রশস্ত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত জরিপ সম্পন্ন করে কুমার নদের ওপর একটি আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হোক। তাদের মতে, এতে দুই উপজেলার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
You cannot copy content of this page