মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডের চিত্র দেখে প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালে কি শুধু রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন, নাকি অসুস্থ রোগীর সঙ্গে একসঙ্গে পুরো পরিবারই অবস্থান করছে?
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেখা যায়, একজন রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজন দীর্ঘ সময় অবস্থান করছেন। এতে শুধু ওই রোগীই নন, আশপাশের অন্য রোগীদের চিকিৎসা, বিশ্রাম ও স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
কেউ রোগী দেখতে এসে দীর্ঘ সময় ওয়ার্ডে অবস্থান করছেন, আবার কেউ রোগীর সঙ্গে থাকার জন্য একাধিক স্বজন নিয়ে আসছেন। ফলে অনেক সময় কে রোগী আর কে স্বজন—তা বোঝাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে আনা হয় চিকিৎসা ও সেবা পাওয়ার জন্য। কিন্তু অতিরিক্ত স্বজনের ভিড়, কথাবার্তা ও হৈচৈয়ের কারণে রোগীরা প্রয়োজনীয় বিশ্রামটুকুও অনেক সময় পান না। অথচ দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম ও শান্ত পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর স্বজনদের বারবার ওয়ার্ডে অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার জন্য বলা হলেও অনেকেই সেই নির্দেশনা মানছেন না। এতে প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালের চিকিৎসার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব কার? একই সঙ্গে রোগীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও অন্য রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দিন গড়িয়ে রাত হয়, রাত পেরিয়ে আবার দিন আসে। কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষ যদি হাসপাতালেও শান্তিতে ঘুমাতে ও বিশ্রাম নিতে না পারেন, তাহলে তার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হতে পারে।
তাই রোগীর স্বজনদের প্রতি অনুরোধ, প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালে ভিড় করবেন না। একজন রোগীর পাশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বজন থাকুন, হাসপাতালের নিয়ম-কানুন মেনে চলুন এবং একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদের সুবিধা-অসুবিধার কথাও বিবেচনা করুন।
হাসপাতাল শুধু রোগীর চিকিৎসার স্থান নয়, এটি অসুস্থ মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার একটি নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশ। সেই পরিবেশ বজায় রাখতে রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ—সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
আসুন, অসুস্থ মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হই, হাসপাতালের নিয়ম মেনে চলি এবং অন্যদের চিকিৎসা ও বিশ্রামের অধিকারকে সম্মান করি।
You cannot copy content of this page