হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ‘ই-থ্রি-জি সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমান জরুরি সংকেত পাঠানোর পর হঠাৎ রাডার থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি শুক্রবার ভোরে ঘটেছে বলে বিভিন্ন ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবিতে জানা গেছে। তবে বিমানটি ঠিক কী কারণে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো মার্কিন বা ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ১৯ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল এবং এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৮৫২ কিলোমিটার। জরুরি সংকেত পাঠানোর পরপরই বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ই-থ্রি-জি সেন্ট্রি মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং ও কন্ট্রোল বিমানগুলোর একটি। এটি আকাশ থেকে শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত, নজরদারি এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন একটি বিমানের হঠাৎ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করছেন, বিমানটি হয়তো ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং কোনো কর্তৃপক্ষও বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং আকাশসীমায় নজরদারি নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
এ অবস্থায় মার্কিন নজরদারি বিমানটির রাডার থেকে অদৃশ্য হওয়ার ঘটনাটি যান্ত্রিক ত্রুটি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন দাবি ও জল্পনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
You cannot copy content of this page