মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্র ও অনুমোদনহীন কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি। কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার নামে প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগ বাড়তে থাকায় বিদেশগামী কর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে মেডিকেল সেন্টার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।
বিদেশে কর্মী হিসেবে যেতে শারীরিক সুস্থতার সনদ বা মেডিকেল সার্টিফিকেট একটি বাধ্যতামূলক নথি। এ সনদ নিবন্ধিত ও অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার বা হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
মালয়েশিয়ায় কর্মী হিসেবে যেতে কলিং ভিসা প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপই হলো মেডিকেল পরীক্ষা। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিকেল সনদ সংগ্রহ করে তা দূতাবাসে জমা দেওয়া হচ্ছে। এ সুযোগে একটি অসাধু চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালুর সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় মেডিকেল সনদ জালিয়াত চক্রও নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশগামী কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা পরিচালনাকারী কেন্দ্রগুলো শতভাগ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত। তার মতে, অতীতে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার কারণে অতিরিক্ত মেডিকেল পরীক্ষা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে সরকারের সরাসরি তদারকি প্রয়োজন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মেডিকেল পরীক্ষা পরিচালিত হলে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং কর্মীরা নির্ভরযোগ্য সনদ পাবেন। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে মেডিকেল সনদের ইংরেজি সংস্করণ, নিবন্ধিত চিকিৎসকের স্বাক্ষর এবং কার্যকর যাচাই ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু অসাধু গোষ্ঠীর প্রভাব ছিল। দেশের স্বার্থ ও প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না রেখে উন্মুক্ত ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা উচিত।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, সরকার মেডিকেল সেন্টারের অনুমোদন ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা আরও উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে আলাদা মেডিকেল সেন্টারের পরিবর্তে অনুমোদিত সাধারণ হাসপাতাল ও মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার জন্য দুই দফায় ৪৪টি মেডিকেল সেন্টারকে অনুমোদন দেয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
You cannot copy content of this page