সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনের নানা মুহূর্তের ছবি ও তথ্য শেয়ার করা এখন অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ, জন্মদিনের আয়োজন কিংবা সন্তানের স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিনের মতো ব্যক্তিগত মুহূর্তও অনেকে নিয়মিত পোস্ট করেন। তবে এসব তথ্য অসতর্কভাবে প্রকাশ করলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও অনলাইন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
একাধিক পোস্ট থেকে কারও পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক, দৈনন্দিন রুটিন ও অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। এসব তথ্য প্রতারণা, ফিশিং, পরিচয় চুরি বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরির মতো অনলাইন অপরাধে ব্যবহার হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু প্রকাশের আগে একবার ভেবে দেখা উচিত—তথ্যটি অন্যের হাতে গেলে কোনো সমস্যা তৈরি হতে পারে কি না।
মোবাইল নম্বর, ব্যক্তিগত ই-মেইল, বাড়ির পূর্ণ ঠিকানা এবং কর্মস্থলের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ্যে পোস্ট না করাই নিরাপদ। এসব তথ্য অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতারকদের হাতে গেলে বিভিন্নভাবে অপব্যবহার হতে পারে।
আপনি কখন কোথাও যাচ্ছেন, কতদিন বাইরে থাকবেন কিংবা কখন বাড়ি খালি থাকবে—এ ধরনের তথ্য আগেভাগে প্রকাশ না করাই ভালো। একইভাবে বোর্ডিং পাস, টিকিট বা হোটেল বুকিংয়ের ছবি পোস্ট করার আগে ব্যক্তিগত তথ্যগুলো মুছে দেওয়া উচিত।
রিয়েল-টাইম লোকেশন শেয়ার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ছবি বা পোস্টের মাধ্যমে অবস্থান সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক কার্ড, অ্যাকাউন্টের তথ্য কিংবা আর্থিক লেনদেনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়।
প্রয়োজন হলে ছবি শেয়ার করার আগে পরিচয়সংক্রান্ত নম্বর, ঠিকানা, কিউআর কোড বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য ঢেকে দেওয়া উচিত।
পোষা প্রাণীর নাম, শৈশবের স্কুল, জন্মস্থান বা পরিবারের সদস্যদের নাম—এ ধরনের তথ্যও অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ না করাই ভালো। কিছু অনলাইন অ্যাকাউন্টে নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর হিসেবে এ ধরনের তথ্য ব্যবহৃত হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার ঘটনাও ঘটতে পারে। পরে সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পরিচিতজনের কাছে অর্থ চাওয়া, সন্দেহজনক লিংক পাঠানো বা অন্য ধরনের প্রতারণার চেষ্টা করা হতে পারে।
অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস ব্যবহার করে পোস্ট কারা দেখতে পারবেন তা সীমিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো তথ্য একবার অনলাইনে প্রকাশ হলে সেটি স্ক্রিনশট বা অন্যভাবে সংরক্ষণ করে পরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এমনকি পোস্ট মুছে ফেললেও তার কপি অন্য কোথাও থেকে যেতে পারে।
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্ট করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—এই তথ্য অন্য কারও হাতে গেলে কি আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?
সচেতনভাবে তথ্য শেয়ার করা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং সম্ভব হলে দুই স্তরের নিরাপত্তা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু রাখা অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় সহায়ক।
You cannot copy content of this page