দীর্ঘ ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে পবিত্র Al-Aqsa Mosque। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাঁচ সপ্তাহ পর সেখানে এক লাখের বেশি মুসল্লি সমবেত হয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। আঞ্চলিক সংঘাত ও কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে আবারও ইবাদতের সুযোগ পেলেন তারা।
এর আগে বুধবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ এবং Church of the Holy Sepulchre বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে প্রায় দেড় মাস এসব পবিত্র স্থানে প্রবেশাধিকার বন্ধ ছিল।
শুক্রবার ভোর হওয়ার আগেই আল-আকসা প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের ঢল নামে। পুরুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের উপস্থিতিতে মসজিদ চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর মসজিদে ফিরে আসতে পেরে মুসল্লিদের মধ্যে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
অধিকৃত জেরুজালেম ও ১৯৪৮ সালে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সেখানে সমবেত হন। ভোররাত থেকেই স্বেচ্ছাসেবীদের তত্ত্বাবধানে বিশেষ কাফেলা জেরুজালেমের উদ্দেশে রওনা দেয়।
জুমার খুতবায় আল-আকসা মসজিদের খতিব Sheikh Mohammad Salim মুসল্লিদের আল্লাহর নির্দেশ পালনে অবিচল থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সত্যের পথ থেকে বিচ্যুতি গোটা জাতির জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
খুতবায় তিনি আরও মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা জেরুজালেমের পুরোনো শহরের স্থানীয় দোকানপাট থেকে কেনাকাটা করেন। তার ভাষায়, দীর্ঘ অবরোধের কারণে এসব ব্যবসায়ী চরম অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছেন, তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো ধর্মীয় ও মানবিক দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এই ধর্মীয় স্থাপনাগুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে টানা পাঁচ সপ্তাহ—৬, ১৩, ২০ ও ২৭ মার্চ এবং ৩ এপ্রিল—ফিলিস্তিনিরা সেখানে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি। অবশেষে ১০ এপ্রিল ষষ্ঠ জুমায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তারা।
এছাড়া ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথমবারের মতো রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ এবং ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে পারেননি ফিলিস্তিনিরা। দীর্ঘ দেড় মাসের অচলাবস্থার পর এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম এই স্থান।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহারযোগ্য নহে