ভারী বৃষ্টিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী শহর রাওয়ালপিণ্ডির বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে শহর দুটির নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাওয়ালপিণ্ডির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, লেহ নুল্লা খালের পানি কাটারিয়ানে ২৯ ফুট এবং গাওয়ালমান্ডিতে ২৩ দশমিক ৫ ফুটে উঠেছে। খালের অববাহিকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর কাটারিয়ান ও গাওয়ালমান্ডি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সাইদপুরে ১০৪ মিলিমিটার, গোলরায় ১৫৭ মিলিমিটার, বোকরায় ৭২ মিলিমিটার এবং এইচ-৮/২ এলাকায় ১৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া কাচেরিতে ৭৪ মিলিমিটার, শামসাবাদে ২০১ মিলিমিটার, পির ওয়াধাইয়ে ৮৬ মিলিমিটার এবং নিউ কাটারিয়ানে ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির পর রাওয়ালপিণ্ডির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে রেসকিউ ১১২২। মঙ্গলবার দুপুরে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৬০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা ঘরের ভেতরে আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাওয়ালপিণ্ডিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার পাশাপাশি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার ইরফান নওয়াজ মেমন জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে রাওয়াল বাঁধের পানির উচ্চতা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এ কারণে দুপুর ২টায় বাঁধের স্পিলওয়ে খুলে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি নাগরিকদের নালা ও পানি প্রবাহের পথের কাছাকাছি না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারী বৃষ্টির কারণে ইসলামাবাদের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ চালকদের অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এ ছাড়া গাড়ির গতি কমানো, অন্য যানবাহনের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দৃষ্টিসীমা কমে গেলে ফগ লাইট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত লেন মেনে চলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক হামিদ মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এতে পানিতে তলিয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি দেখা যায়। তিনি জানান, ইসলামাবাদ এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি অংশ বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে এবং বেশ কিছু গাড়ি আটকা পড়েছে।
সাবেক জলবায়ুমন্ত্রী শেরি রহমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যায়, বন্যার পানিতে কয়েকটি গাড়ি প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত ডুবে রয়েছে। তিনি বলেন, সোমবার রাত থেকে রাওয়ালপিণ্ডি ও ইসলামাবাদে ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
সোমবারও রাওয়ালপিণ্ডি ও ইসলামাবাদে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিকেলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এর আগে পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদফতর দেশের উত্তরাঞ্চলে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিল।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিণ্ডিসহ মারদান, সোয়াবি, গুজরানওয়ালা, গুজরাট, শিয়ালকোট ও লাহোরের নিচু এলাকায় নগর বন্যা দেখা দিতে পারে।
You cannot copy content of this page