কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানো হচ্ছে। অপর দুই প্রাপ্তবয়স্ক আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়ামকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চার আসামিকে কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি অনুযায়ী ১৫ বছর বয়সী মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও ১৬ বছর বয়সী কামরুল হাসানকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, দুই কিশোরকে সোমবার গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে রোববার রাতে চার আসামির মধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন। সিয়ামকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলায় তার সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।
রোববার সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোন নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতিমের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।
১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে। গত শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার সঙ্গে থাকা আইফোনটি পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
You cannot copy content of this page