প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৫, ২০২৬, ৮:২৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৫, ২০২৬, ১০:৪৩ এ.এম
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধির পথে এগোনোই সরকারের লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে প্রথমে স্থিতিশীল এবং পরে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়, এবারের বাজেটে সে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাজেটে খুব স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং স্থিতিশীল অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার রূপরেখা। প্রথম ধাপে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। এরপর সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে সমৃদ্ধির পথে এগোনো হবে। তখন অর্থনীতি নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে।”
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং সেই সহায়তা মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে, সেটিও মূল্যায়ন করতে চায়।
তিনি বলেন, “টাকা দেওয়ার পর আমরা জানতে চাই, তাদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ জন্য একটি পরিমাপ পদ্ধতি প্রয়োজন। কারণ, এই সহায়তা কতটা কার্যকর হয়েছে এবং মানুষের জীবনমান কতটা উন্নত হয়েছে, তা জানা জরুরি।”
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার যদি পিছিয়ে পড়ে, তাহলে তার কারণও বিশ্লেষণ করা হবে। এতে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
বড় বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল এবং স্থিতিশীল অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতিতে উত্তরণ ঘটানো। বাজেটে এই লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, অতীতের বাজেটগুলোতে এভাবে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। এবারের বাজেটে কোন শ্রেণির মানুষের জন্য কী বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ কী—তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “সমাজের কোনো শ্রেণি বা দেশের কোনো নাগরিককে বাদ দিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়নি। দেশের প্রতিটি মানুষকে বিবেচনায় রেখেই বাজেট তৈরি করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘ডেমোক্র্যাটাইজেশন অব দ্য ইকোনমি’ (অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ) হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, “শুধু একটি বিশেষ গোষ্ঠী অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে আর অন্যরা বঞ্চিত থাকবে—এমন অর্থনীতি একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য কাম্য নয়। অর্থনীতির সুযোগ ও উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমরা এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছি।”
বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।