মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিমের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে চেতনানাশক কোনো পদার্থ খাইয়ে বা স্প্রে করে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে অচেতন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার।
নিহত মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জবাজারের মাজদিহী এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। তিনি চার কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে শ্রীমঙ্গলের জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদ নগর বরুণা মাদরাসায় শিক্ষকতা করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গলের ভৈরব বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। শুক্রবার বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি মাদরাসায় রয়েছেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন, ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নির্জন এলাকা থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, তাঁর শরীরে দৃশ্যমান রক্তাক্ত ক্ষত বা শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন ছিল না। এ কারণে তাঁকে চেতনানাশক কোনো পদার্থ খাইয়ে কিংবা স্প্রে করে সেখানে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে স্বজনদের ধারণা। তবে কীভাবে তিনি শ্রীমঙ্গল থেকে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতু এলাকায় পৌঁছালেন, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন যুবক সেতুর নিচে তাঁকে অচেতন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে ভৈরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবাদুর রহমান মোশাহিদের একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাওলানা জসিমের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দেখে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকারী যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন।
খবর পেয়ে বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আহমদ জুবায়ের জুয়েলসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন। পরে হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে গাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার বলেন, শুক্রবার থেকে তাঁর চাচা নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, তিনি মাদরাসায় আছেন। পরে শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। ভৈরবের একটি হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
কীভাবে মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গল থেকে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতু এলাকায় গেলেন এবং তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে তাঁকে চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, কিংবা তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
You cannot copy content of this page