ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থানের মেয়াদও বাড়ানো হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ২০২৭ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে শুরুতে স্বল্পমেয়াদি ও দ্রুত সফলতা অর্জনের সামরিক অভিযান হিসেবে উপস্থাপিত হলেও যুদ্ধ এখন দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা, ১৯টি যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট ও প্যারাট্রুপার মোতায়েন রয়েছে।
দীর্ঘ সময় মোতায়েনের কারণে যুদ্ধজাহাজের নাবিক, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট ও প্যারাট্রুপারদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোর মোতায়েনের মেয়াদ নয় মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করা হয়েছে। ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো কিছু ইউনিটও এক বছরের বেশি সময় ধরে সেখানে অবস্থান করছে।
দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনে মার্কিন সেনাসদস্য, তাদের পরিবার এবং সামরিক সরঞ্জামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীতেও। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ১৯টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং ১৩টি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে।
যুদ্ধের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক ও ইউএসএস স্প্রুয়েন্স এখন অবরোধ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। প্রায় ৩০০ সদস্যের এসব যুদ্ধজাহাজের ক্রুরা বিরতি নেওয়ার পরিবর্তে টানা কয়েক মাস সমুদ্রে অবস্থান করছেন।
সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকেও এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শেষ ঘোষণা করার বিষয়েও তিনি ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়ার কারণে তিনি আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের জনগণ কবে উঠে দাঁড়িয়ে লড়াই করবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নির্বাচনের ফলাফল তিনি বিবেচনায় নিচ্ছেন না।
সেনাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলেও ইরানে আরও হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে বুধবার সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘যেকোনো সময়’ ইরানে আরও হামলা চালাতে পারে।
এদিকে ইরানের ওপর সামরিক অভিযানের পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ ও পাল্টা চাপও আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
You cannot copy content of this page