অনলাইনভিত্তিক সিসা বিক্রির একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যমজ দুই ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে প্রায় ৬৬ কেজি সিসা, ৪১টি হুঁকা, ৪০ কেজি কয়লা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএনসি জানায়, এক অভিযানে এত পরিমাণ সিসা জব্দের ঘটনা দেশে এটিই সর্বোচ্চ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন যমজ দুই ভাই আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি এবং তাদের সহযোগী মো. মাকসুদ আলম। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, দুই ভাই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সিসার দুটি চালান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে এক কেজি এবং মালিবাগ থেকে আরও এক কেজি সিসার দুটি পার্সেল জব্দ করা হয়।
পার্সেলের প্রেরকের ঠিকানা অনুসরণ করে একই দিন গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা ও ২০টি হুঁকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই ভাই জানান, তাদের কাছে সিসার বড় চালান সরবরাহ করতেন মাকসুদ আলম। পরে ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে আরও ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুঁকা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে সিসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত ৪০ কেজি কয়লা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ বদরুদ্দীন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফির বাবা-মা ইরানের নাগরিক। ব্যবসায়িক কারণে তারা বাংলাদেশে আসেন এবং দুই ভাইয়ের জন্ম বাংলাদেশে। ইরানে যাতায়াতের সময় তারা সিসার বাজার, সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবসার কৌশল সম্পর্কে ধারণা নেন। পরে দেশে ফিরে অনলাইনভিত্তিক সিসা বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলায় এর কার্যক্রম বিস্তৃত করেন।
ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সিসা বিক্রি করছিলেন। ওই পেজে পণ্যের ছবি প্রকাশ, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, অর্ডার গ্রহণ ও মূল্য নির্ধারণ করা হতো। অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সিসা পাঠানো হতো এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা হতো।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ফেসবুক পেজ থেকে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্রেতা, পরিবেশক ও চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের কাজ চলছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
You cannot copy content of this page