প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৩০, ২০২৬, ৭:০৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩০, ২০২৬, ১০:৪৩ এ.এম
চসিকের ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা, উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন বাজেটে উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ বাজেট ঘোষণা করেন।
এ সময় তিনি বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করেন। এর আগে ওই অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ১৪৫ কোটি ৪২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল।
নিজের মেয়াদে দ্বিতীয় বাজেট উপস্থাপন করে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং নান্দনিক পর্যটন নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠাই এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে উন্নয়ন অনুদান খাতে ৯৭৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য কর-অভিকর খাতে ৪২৬ কোটি টাকা এবং বকেয়া কর আদায় থেকে ১৯৭ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যয়ের দিক থেকে উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, অতীতে অযৌক্তিকভাবে নির্ধারিত গৃহকর পুনর্মূল্যায়নের জন্য নিয়মিত রিভিউ বোর্ড বসানো হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ন্যায্য কর নির্ধারণ করা হচ্ছে।
তবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্দর, রেলওয়ে, ৩৬টি কনটেইনার টার্মিনাল, অয়েল কোম্পানি লিমিটেডসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ করতেই হবে। কারণ রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান সরাসরি সম্পর্কিত।
অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেন মেয়র। এর মধ্যে রয়েছে—স্বচ্ছতার সঙ্গে চলমান নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন ও অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সব কার্যক্রম ধাপে ধাপে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা।