ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সোমবার থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করবে। বর্ধিত রুটে ট্রেনটির প্রথম যাত্রা শুরু হবে সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে। এ যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মহানগর এক্সপ্রেসের কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচলের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় কমলাপুর থেকে ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। মন্ত্রী এ যাত্রার উদ্বোধন করবেন।
তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলের সময় মহানগর এক্সপ্রেস যেসব স্টেশনে থামত, সেগুলোর মধ্যে শুধু কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকবে না। বাকি স্টেশনগুলোতে ট্রেনটি থামবে এবং যাত্রীরা ওঠানামা করতে পারবেন।
প্রথম যাত্রায় ট্রেনটিতে আগের মতোই ১৬টি কোচ থাকবে। যাত্রীদের চাহিদার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কোচের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান মামুনুল ইসলাম।
চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে মহানগর এক্সপ্রেসকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চালানোর সিদ্ধান্তের কথা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টকে জানানো হয়।
যাত্রার সময়সূচি
নতুন সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে। সেখানে ২০ মিনিট বিরতির পর রাত ৩টায় কক্সবাজারের উদ্দেশে আবার যাত্রা শুরু করবে। ট্রেনটি সকাল ৬টায় কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ফিরতি পথে ট্রেনটি সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে। সেখানে ২০ মিনিট বিরতির পর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ট্রেনটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রায় সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা। পথে ট্রেনটি ঢাকার বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী—এই ১১টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। তবে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা স্টেশনে আর থামবে না।
বর্তমানে ঢাকা থেকে দুই জোড়া এবং চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া ট্রেন কক্সবাজার রুটে চলাচল করছে। ঢাকা থেকে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম ছাড়া মধ্যবর্তী অন্য কোনো স্টেশনে থামে না। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেস মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়।
মহানগর এক্সপ্রেসে ১৬টি কোচে সর্বোচ্চ ৭৩৬টি আসন রয়েছে। ট্রেনটি সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন চলাচল করবে। রোববার এর সাপ্তাহিক বন্ধ।
You cannot copy content of this page