রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেটকারের চাপায় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়া নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই গাড়িতে থাকা এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আমিনুল হক বাপ্পী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই কিশোরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেহেদী হাসানকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গাড়িতে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। তবে ওই রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ তাকে আবার হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কালো রঙের একটি প্রাইভেটকার দ্রুতগতিতে এসে ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদী হাসানকে চাপা দেয়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ বের করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কিশোর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তার ছেলে এবং প্রাইভেটকারটি তার পরিবারের। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি একজন চালক চালাচ্ছিলেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে দুজন ব্যক্তি বেরিয়ে আসেন। চালকের পাশ থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোর এবং অন্য পাশ থেকে শার্ট পরা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি গাড়ি থেকে নামেন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুজনই গাড়ির পাশে অবস্থান করেন এবং একপর্যায়ে ওই কিশোরকে সেখান থেকে সরে যেতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই নিহত মেহেদী হাসানের ভাই মোক্তাদির ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করে গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনাটির বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর তাকে গুলশানের বাসা থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
You cannot copy content of this page