নয় বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বর্তমানে কানাডার টরন্টোতে ছোট মেয়ের সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি। তবে নিজের অভিবাসনপ্রক্রিয়া, পাসপোর্ট ও পেনশন নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন সাবেক এই বিচারপতি। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে একটি সাজানো মামলায় দণ্ডিত হওয়ার কারণে কানাডায় তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া আটকে আছে। দেশে ফিরতে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
গণমাধ্যমের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলাপচারিতায় নিজের বর্তমান পরিস্থিতি, দেশত্যাগ, পদত্যাগ, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে বিরোধ এবং দেশে ফেরার চেষ্টা নিয়ে কথা বলেছেন এস কে সিনহা।
নিজের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো রিফিউজি হিসেবেই আছি এখন। কারণ হলো শেখ হাসিনার সরকার আমাকে একটা কনভিকশন (দোষী সাব্যস্ত করা) দিয়েছিল, একটা সাজানো মামলায়। …যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি স্ট্যাটাসবিহীন একেবারে ফ্লোটিংম্যান, যাকে বলে ভাসমান লোক হিসেবে আছি।’
সিনহার দাবি, কানাডায় তাঁর স্ত্রীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা পিআর হয়েছে। তাঁর নিজের পিআরও অনুমোদিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে পুলিশ রিপোর্ট না পাওয়ায় কার্ড ইস্যু হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার পিআর অ্যাপ্রুভ হয়েছে। তবে পুলিশ রিপোর্ট পাইনি, কার্ড ইস্যু হয়নি।’
২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম অমুসলিম প্রধান বিচারপতি। তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮২ দিন আগেই পদত্যাগ করেন তিনি।
২০১৭ সালের ২ অক্টোবর তাঁর ছুটির খবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর ছুটিতে থাকা অবস্থায় বিদেশযাত্রা এবং বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠানোর ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ওই বছরের ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি। এরপর থেকে আর দেশে ফেরেননি।
এস কে সিনহার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে অস্ট্রেলিয়া, পরে কানাডা এবং সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে আবার কানাডায় ফেরেন তিনি। বর্তমানে টরন্টোতে ছোট মেয়ের সঙ্গে বসবাস করছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।
সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা নিয়ে বিরোধের মধ্য দিয়ে। এ বিরোধ আরও তীব্র হয় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে।
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার বিধান করা হয়েছিল। সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হলে হাইকোর্ট রায় দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।
২০১৭ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দেন। এর ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান বহাল থাকে। একই বছরের ১ আগস্ট রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
রায়ে গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি সিনহা। এসব পর্যবেক্ষণ নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, নেতা ও সরকারপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা তাঁর পদত্যাগের দাবিও তোলেন। অন্যদিকে রায়কে স্বাগত জানায় বিএনপি।
২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ওই রায় বাতিলের জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া পর্যবেক্ষণ বাতিলের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়। এর আগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ ১৮ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য রায়টি নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় তাঁরা প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ ওই বছর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। পরে ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদনটি পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করেন। এর মধ্য দিয়ে বিচারকদের অপসারণের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের পরিবর্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানগুলো পুনর্বহাল হয়।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পদত্যাগের আগ পর্যন্ত দুই বছর নয় মাস ২৫ দিন দায়িত্ব পালন করেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তাঁর মতে, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ই তৎকালীন সরকারের সঙ্গে বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।
নিজের আত্মজীবনীমূলক বই ‘আ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’তে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা লিখেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ঘোষণার আগে তাঁকে বঙ্গভবনে চায়ের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ১ জুলাই সকালে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একটি কল আসে। ফোনকারী নিজেকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সামরিক সচিব পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছা অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। পরে সামরিক সচিবের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি খুদে বার্তাও পান তিনি।
সিনহার ভাষ্য অনুযায়ী, আমন্ত্রণ পেয়ে ২ জুলাই সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে যান তিনি। সেখানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক এই প্রধান বিচারপতির অভিযোগ, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে কথা বলেন এবং সরকারের পক্ষে রায় দেওয়ার অনুরোধ জানান। জবাবে তিনি বলেছিলেন, সরকারের পক্ষে মতামত দিলেও হাইকোর্টের রায় বাতিল হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, বিষয়টি নিয়ে তিনি ও আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা তখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
সিনহার দাবি, রায় ঘোষণার আগে তাঁকে সরকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় বৈঠকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে তিনি পদত্যাগের কথা বললেও উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, রায় ঘোষণার আগে পদত্যাগ করলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। উপস্থিত ব্যক্তিদের অনুরোধে তখন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি।
২০১৭ সালের অবকাশকালীন ছুটি শেষে ৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর এক দিন আগে, ২ অক্টোবর, এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তাঁর ছুটি নিয়ে তখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
তৎকালীন সরকারের মন্ত্রীরা জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রধান বিচারপতি ছুটি নিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ তোলা হয়। এর মধ্যে ৫ অক্টোবর ছুটিতে থাকা অবস্থায় জনসমক্ষে আসেন সিনহা।
নিজের বইয়ে তিনি লিখেছেন, অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর সকালে আদালতে গিয়েছিলেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সেদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর ব্যক্তিগত সচিব জানান, ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন দুপুর ১২টায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। তিনি তাঁকে আসার অনুমতি দেন।
সিনহার দাবি, সাক্ষাতে ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করছেন। তাঁকে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চার মাসের ছুটিতে যাওয়ার কথা বলা হয়। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। সেদিন বাসায় ফেরার পর নিজেকে গৃহবন্দী অবস্থায় পান বলে দাবি করেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।
অন্যদিকে আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিনের ছুটি রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেছেন। তাঁর ছুটির সময়ে আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে অসুস্থতার কারণে ছুটির কথা বলা হলেও বিদেশে যাওয়ার আগে ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেন, তিনি অসুস্থ নন, ভালো আছেন। তবে কিছুটা বিব্রত। বিচার বিভাগের স্বার্থে এবং বিচার বিভাগ যাতে কোনোভাবে কলুষিত না হয়, সে জন্য সাময়িকভাবে দেশের বাইরে যাচ্ছেন।
সেদিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেওয়া লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী এবং বিশেষ করে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী যেভাবে তাঁর সমালোচনা করেছেন, তাতে তিনি বিব্রত।
তাঁর দেশত্যাগের ঘটনায় তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যা ঘটেছে, তা বিচার বিভাগের ওপর সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ।
সিনহার দাবি, তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল এবং এ ঘটনা ছিল ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে চাপ দিতে ডিজিএফআইকে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিচারক হওয়ার কারণে তাঁকে আয়নাঘরে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে দাবি করেন, বঙ্গভবন থেকে ফেরার পর আপিল বিভাগের সহকর্মী বিচারকেরা রাতারাতি তাঁর সঙ্গে একই বেঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি বলেন, ‘ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন প্রধান বলেছিলেন, “স্যার আপনি থাকতে পারবেন না, আপনাকে দেশের বাইরে যেতে হবে।” ডিজিএফআই ও শেখ হাসিনার চোখ রাঙানি আমি ভয় পাইনি।...ভয় পেয়েছিলাম সহকর্মীদের ভূমিকায়।’
সিনহার ভাষ্য, সহকর্মী বিচারকদের সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি একপর্যায়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের কারণেই তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল বলে মনে করেন তিনি।
চাকরিজীবনের পাওনা সুবিধার মধ্যে অর্জিত ছুটি নগদায়ন বা ল্যাম্প গ্রান্ট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থের মধ্যে প্রথমে ১২ মাসের টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরে বাকি ছয় মাসের অর্থও পেয়েছেন। তবে পেনশন এখনো দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিনহা বলেন, কানাডা থেকে পেনশনের জন্য আবেদন করার পর তাঁকে জানানো হয়েছে, কনসাল জেনারেলের মাধ্যমে তাঁর স্বাক্ষর সত্যায়িত করাতে হবে। এ প্রক্রিয়াকে অপমানজনক বলে মনে করেন তিনি।
নিজের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি না খেয়ে মরছি কিন্তু আমি কোনো দিনই “বো ডাউন” (নত হওয়া) করি নাই।’
দেশত্যাগের পর সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে সব মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্তত একটি মামলার রায় পড়েছেন বলে উল্লেখ করে সেটিকে সাজানো মামলা বলে দাবি করেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা ওই মামলায় অভিযোগ ছিল, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংকের—বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক—চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মামলাটির রায় দেন। রায়ে দুটি ধারায় সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে যথাক্রমে সাত ও চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে সিনহার দাবি, মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়ি বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে চার নম্বর সেক্টরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন। ওই লেনদেনের তথ্য আয়কর রিটার্নেও উল্লেখ করেছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, মামলায় এসব তথ্য আড়াল করে মনগড়া অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন বলে জানিয়েছেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তবে দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও আবেদনটির বিষয়ে কোনো সাড়া পাননি বলে তাঁর অভিযোগ।
টরন্টোয় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের কার্যালয়ে সর্বশেষ ৪ আগস্ট ই-মেইলে তাগাদা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে সিনহা বলেন, ‘আমি দেশে ফিরতে চাই। পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছি, দুই বছরের বেশি হয়ে গেল। কনসাল জেনারেলের কার্যালয়ে রিমাইন্ডার দিয়ে সর্বশেষ ৪ আগস্ট মেইল পাঠিয়ে বললাম—এর কী অবস্থা? কোনো রেসপন্স পাইনি।’
সাবেক এই প্রধান বিচারপতির দাবি, বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলায় দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি কানাডায় তাঁর অভিবাসনপ্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর স্ত্রীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি হয়েছে এবং নিজের পিআরও অনুমোদিত হয়েছে বলে দাবি করলেও পুলিশ রিপোর্ট ও কার্ড ইস্যু না হওয়ায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়নি বলে জানান তিনি।
নয় বছর ধরে দেশের বাইরে থাকা এস কে সিনহা এখন দেশে ফিরতে চান। কিন্তু পাসপোর্টের আবেদন, পেনশন সুবিধা এবং কানাডায় অভিবাসনপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন তিনি। দেশে ফেরা ও নিজের আইনি অবস্থান নিয়ে তাঁর অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
You cannot copy content of this page