সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। পশ্চিমাঞ্চলের তেল কুদনা ও তেল আল-মুগর এলাকায় অনুপ্রবেশের সময় জনরোষের মুখে দ্রুত সরে যাওয়ার সময় এক ইসরায়েলি সেনা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উচ্চপ্রযুক্তির সামরিক স্মার্টফোন ফেলে যায়। পরে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সেই ডিভাইসের ছবি প্রকাশিত হলে তেল আবিবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
গত রোববার সাঁজোয়া যান ও স্নাইপারসহ দারা অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালায় আইডিএফ। ইসরায়েলের দাবি, এটি তাদের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এ নিয়মিত সামরিক কার্যক্রমের অংশ ছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাধারণ মানুষ পাথর নিক্ষেপ করে সেনাদের ঘিরে ফেললে ইসরায়েলি বাহিনী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে দ্রুত পিছু হটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পিছু হটার সময় এক রিজার্ভ সেনা তার সামরিক হ্যান্ডসেটটি ফেলে যান। পরে সেটি স্থানীয়দের হাতে আসে। ঘটনাটির পর অনেক সিরীয় নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাথরের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “এই মাটি কোনো আগ্রাসনকারীকে নিরাপদ পারাপার হতে দেবে না।”
উদ্ধার হওয়া ডিভাইসটি সাধারণ মোবাইল ফোন নয়। ২০২২ সালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হওয়া ‘ওলার’ নামের এই উচ্চপ্রযুক্তির ডিজিটাল রণকৌশল ডিভাইসটি ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স ও সাইবার ডিফেন্স ডিরেক্টরেটের যৌথ উদ্যোগে তৈরি।
ডিভাইসটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে—
ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দূরনিয়ন্ত্রিত (রিমোট লকিং) প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোনটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে এর ভেতরে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। আইডিএফের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
সিরীয় গণমাধ্যমের দাবি, এই অনুপ্রবেশ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ১৯৭৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান, বিমান হামলা, কৃষিজমি ধ্বংস এবং বেসামরিক নাগরিকদের আটক করে আসছে।
এ ঘটনায় সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং কামানের গোলাবর্ষণের মাধ্যমে বেসামরিক জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী।
You cannot copy content of this page