ঢাকার মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিলগালা করে রাখা শিশু ওয়ার্ডের চাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফিরিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। চাবি বুঝে পাওয়ার পর ওয়ার্ডটিতে মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। তবে হাসপাতালের লাইসেন্স পুনর্বহাল বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শিশু ওয়ার্ডের চাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল জানান, শিশু ওয়ার্ডের পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডেও মেরামত ও সংস্কারকাজ চলছে। তবে লাইসেন্স পুনর্বহাল বিষয়ে এখনো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর স্বজনরা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন।
ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে অনুকূল পরিবেশের ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
পরে ৪ জুন প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু নার্স ও কর্মীর অবহেলার বিষয় উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ১১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় 'মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২' অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়।
এ সিদ্ধান্তের পর হাসপাতালটির কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম চালু রাখার পক্ষে মত দেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে পৃথক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে গত রোববার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের দায়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াই একমাত্র সমাধান নয়; বরং দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনাই মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডের সংস্কারকাজ চললেও হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহাল হবে কি না, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
You cannot copy content of this page