ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র আমদানির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযানে নেমে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেলটা ফোর্স।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বলেন, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
পাম বন্ডি জানান, মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র ব্যবহারের ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ অভিযানের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক দুই শীর্ষ মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতারে এটি একটি সফল অভিযান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। সে সময় তাকে গ্রেফতারের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২৫ সালের শুরুতে বাইডেন প্রশাসনের শেষ দিকে পুরস্কারের অঙ্ক বাড়িয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করা হয়।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০২৫ সালের আগস্টে ‘কার্টেল দে লস সোলেস’-কে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার পুরস্কার বাড়িয়ে ৫ কোটি ডলার করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সংগঠনের শীর্ষ নেতা হলেন মাদুরো নিজেই।
গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, মাদুরোর সরকার একটি মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী—এ দাবি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে গ্র্যান্ড জুরির কাছে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
শনিবার সকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানান, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। রুবিও তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় বিচার চলবে। লি আরও লেখেন, শনিবার রাতে পরিচালিত সামরিক অভিযান মূলত এই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতেই চালানো হয়েছিল।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়