আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার গতি বাড়ানো এবং কিছু নিয়ম আরও স্পষ্ট করতে একাধিক পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নতুন নিয়মে সময় নষ্টের জন্য ব্যাটারকে শাস্তি, নারী ও পুরুষ ক্রিকেটে বলের মাপ ও ওজনে আলাদা মানদণ্ড, রানআউট-স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং ওভারথ্রোর সংজ্ঞাসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
১ অক্টোবর বা তার পর শুরু হওয়া সব আন্তর্জাতিক সিরিজে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। তবে এর আগে শুরু হওয়া সিরিজগুলো পুরোনো নিয়মেই চলবে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার আসন্ন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজেও নতুন নিয়ম কার্যকর থাকবে। নারী ও পুরুষ ক্রিকেটের সব ফরম্যাটের হালনাগাদ নিয়ম আইসিসির নিয়ম ও বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে।
আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট কমিটির সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, ক্রিকেটের শর্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে বলসংক্রান্ত নিয়ম, ফিল্ডিংয়ের কিছু বিষয়ে স্পষ্টতা এবং খেলার গতি বাড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। খেলার আধুনিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এর সততা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনা করেই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নতুন নিয়মে ব্যাটারদের সময় নষ্টের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাটার বল খেলার জন্য প্রস্তুত না হলে প্রথমবার সতর্ক করা হবে। দ্বিতীয়বার দেওয়া হবে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। এরপর তৃতীয়বার বা প্রতিবার একই ঘটনা ঘটলে ফিল্ডিং দল ৫ রান পাবে। বারবার নিয়ম ভাঙলে আচরণবিধির আওতায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটে ব্যবহৃত বলের মাপ ও ওজনেও নতুন নির্দিষ্ট সীমা চালু হয়েছে। এতদিন প্রস্তুতকারকেরা অনেক ক্ষেত্রে নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য পুরুষ ক্রিকেটের কাছাকাছি একই ধরনের বল তৈরি করতেন। নতুন নিয়মে পুরুষ, নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য বলের মাপ ও ওজনের পৃথক মানদণ্ড থাকবে।
ওভারথ্রো নিয়েও নিয়ম আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। স্টাম্পের দিকে বল ছুড়ে রান আটকানো বা রানআউটের চেষ্টা করতে গিয়ে বলের গতিপথ পরিবর্তিত হলে সেটিকে ওভারথ্রো হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে বল থামাতে গিয়ে ভুল করা বা অন্য ফিল্ডারের কাছে বল পাঠাতে গিয়ে ভুল হলে সেটিকে ওভারথ্রো বলা হবে না।
বল কখন সম্পূর্ণভাবে ‘ডেড’ হয়েছে, সে বিষয়ে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের ক্ষমতাও আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ বলে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নতুন নিয়মে বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা থাকছে না।
রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের সময় ফিল্ডারের হাতে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। স্টাম্প ভাঙার মুহূর্তে ফিল্ডারের হাত শুধু বলকে স্পর্শ করলেই সেটিকে বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হিসেবে ধরা হবে না। ফিল্ডারকে বলের ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।
টেস্ট ক্রিকেটেও কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিনের বেলার টেস্টে খারাপ আলোর কারণে খেলা ব্যাহত হওয়া কমাতে দুই দলের সম্মতিতে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং একবার সিদ্ধান্ত হলে পুরো ম্যাচে একই বল ব্যবহার করতে হবে। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর লাল বল থেকে গোলাপি বলে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
এ ছাড়া দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়ে গেলেও পরিস্থিতি খেলার উপযোগী থাকলে ওভারটি শেষ করতে হবে। আগের নিয়মে উইকেট পড়ার পর দিনের খেলা শেষ হয়ে যেত এবং বাকি বল পরের দিন করতে হতো। নতুন নিয়মে সেই পরিস্থিতি এড়ানো হবে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও সময় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের মাঝের বিরতি ১৫ মিনিট রাখা হয়েছে। তবে ম্যাচে সময় নষ্ট হলে এই বিরতি কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ড্রিংকস বিরতির সময় দলের প্রধান কোচ বা তার মনোনীত একজন সদস্য মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে দুই ফরম্যাটে নিয়মের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।
ওয়াইড বলের ক্ষেত্রেও পরীক্ষামূলক নিয়মকে স্থায়ী করা হয়েছে। নতুন নিয়মে বল করার মুহূর্তে ব্যাটারের পায়ের অবস্থানকে ওয়াইড নির্ধারণের অন্যতম মাপকাঠি ধরা হবে। বল করার আগে বা বল করার সময় ব্যাটার নড়াচড়া করলেও পরবর্তী সময়ে অফ সাইডে সরে যাওয়ার বিষয়টি ওয়াইড নির্ধারণে বিবেচনা করা হবে না।
আইসিসির মতে, নতুন এসব পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো ক্রিকেটের গতি বাড়ানো, নিয়মের ব্যাখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি কমানো এবং আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে খেলার আইন ও শর্তগুলোকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
You cannot copy content of this page