চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে ডনের পক্ষে আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন।
ডনের আইনজীবী বলেন, আশরাফুল হক ডন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন দাবি করে তার জামিনের আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, রিজভী নামে এক আসামি অন্য একটি মামলায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডনের নাম উল্লেখ করেছেন। তদন্তাধীন এ মামলায় ডনকে জামিন দিলে তিনি পলাতক হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
গত রোববার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লিও, আশরাফুল হক ডন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের একটি ফ্ল্যাটে মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি।
পরবর্তীতে সিআইডি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা করলে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সেখানেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
এরপর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেন এবং ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে র্যাব ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে। পিবিআই ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানায়, সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতি দেন।
তবে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দিসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গত ২০ মে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করলে আদালত সেটি নথিভুক্ত করেন।
গত ২২ জুন সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়। সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করেন। আদেশের অনুলিপি পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।
You cannot copy content of this page