বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এক ডজনের বেশি নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে সাংগঠনিক যোগাযোগ ও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ২০২৪ সালের ১ মার্চ ঘোষণা করা হয়। ওই সময় মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। পরে একই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
বর্তমান কমিটির অধীনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর ও মেডিকেল কলেজসহ শতাধিক সাংগঠনিক ইউনিট পুনর্গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপির হাইকমান্ড।
বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগস্ট মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় নতুন কমিটি ঘোষণার সময় কিছুটা পিছিয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য কমিটির তালিকা ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রয়েছে।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মনজুরুল আলম রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, রাজু আহমেদ, মমিনুল ইসলাম জিসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।
এ ছাড়া আনোয়ার পারভেজ, মো. খোরশেদ আলম সোহেল, এইচ এম আবু জাফর, ইজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, মাহমুদ ইসলাম কাজল ও আজিজুল হক জিয়নসহ আরও কয়েকজন নেতার নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলনে অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন সময়ে মামলা ও গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতাও দলীয় পর্যায়ে বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। পদপ্রত্যাশীদের সবাই যোগ্য এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যাদের দায়িত্ব দেবেন, তাদের প্রতি সবাই সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করবেন। তিনি বলেন, নেতৃত্বের বিষয়ে সংগঠনের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা রয়েছে, তবে কোনো অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই।
You cannot copy content of this page