সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো (নবম পে-স্কেল) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর করা হতে পারে। তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় বর্ধিত বেতন হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
নতুন কাঠামোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হবে, যা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে ঘোষিত বৃদ্ধির তুলনায় বাস্তবে নিট আয় কিছুটা কম হবে।
নতুন পে-স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাবেন বলে জানা গেছে, কারণ মূল্যস্ফীতির চাপ তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়েছে।
সরকার তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিকভাবে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ শতাংশ সুবিধা দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী দুই অর্থবছরে বাকি সমন্বয় সম্পন্ন করা হবে।
জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হলেও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সরকার তুলনামূলকভাবে সীমিত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট পরিকল্পনায় বেতন-ভাতা খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী মাসে চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। গেজেট প্রকাশের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে।
You cannot copy content of this page