চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে সম্মিলিতভাবে পাস করেছেন ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ পরীক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় একযোগে সব শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৩৬ জন শিক্ষার্থী। সে সময় দেশের সাতটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো।
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৪ সালের পর থেকে পাসের হার বাড়তে শুরু করে। ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৫০৯ জন। ২০০৬ সালে পাসের হার বেড়ে ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশে দাঁড়ায়। সে বছর জিপিএ-৫ পান ৯ হাজার ৮৬৮ জন। ২০০৭ সালে পাসের হার কিছুটা কমে ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ হয়।
২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাসের হারে ওঠানামা ছিল। এ সময় ২০১২ সালে সর্বোচ্চ ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ পাসের হার রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে ২০১৮ সালে পাসের হার কমে ৬৪ দশমিক ৫৫ শতাংশে দাঁড়ায়, যা তখনকার ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।
২০১৯ সালে পাসের হার বেড়ে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে পৌঁছায়। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে কোনো লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরের বছর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর ২০২২ সালে পাসের হার কমে ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়ায়।
২০২৫ সালে পাসের হার আরও কমে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমে আসে। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট কম।
পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। গত বছর ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। সারা দেশের ২ হাজার ৬৯১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে ৯ সেপ্টেম্বর চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা শেষ হয়।
প্রকাশিত ফলে কোনো শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে আগামী ১ নভেম্বর থেকে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
You cannot copy content of this page